বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট পটুয়াখালী জেলা কমিটি (২০২৬–২০২৯) অনুমোদন

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের পটুয়াখালী জেলা শাখার জন্য আগামী তিন (৩) বছরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।

এই নবগঠিত কমিটি ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সংগঠিত করা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে পটুয়াখালী জেলার নবনির্বাচিত সকল সারথিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হচ্ছে। আশা করা যায়, এই কমিটি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদিপ কান্তি দে এর জন্মদিন পালন করলো হিন্দু মহাজোট পরিবার।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে-র জন্মদিন যথাযোগ্য মর্যাদায় ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। গত ৩০ শে মার্চ, মঙ্গলবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট পরিবারের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রদীপ কান্তি দে-র জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বার্তা প্রেরণ করেন। হিন্দু মহাজোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা প্রিয় নেতার জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন।

জন্মদিন উদযাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র ও যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ, ঢাকা মহানগর কমিটিসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ কমিটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উপস্থিত বক্তারা বলেন, প্রদীপ কান্তি দে কেবল একজন সফল সংগঠক বা সভাপতি নন; তিনি তার মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং অসীম সাহসের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। সনাতনী সমাজের যেকোনো সমস্যা ও সংকটে তিনি সর্বদা রাজপথে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে সনাতনীদের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনে তার নেতৃত্ব ও ভূমিকা অনস্বীকার্য।

অনুষ্ঠানে কেক কাটার পর প্রদীপ কান্তি দে-র দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। পরিশেষে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরণ ও আপ্যায়নের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।


সাফল্যের ২১ বছর

পেছনে ফেলে আসা দুই দশকেরও বেশি সময় আমাদের কাছে কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং ইতিহাস, সংগ্রাম আর ঐতিহ্যের এক অবিস্মরণীয় জয়যাত্রা। প্রতিটি বাধা জয় করে আমরা আজ দাঁড়িয়ে আছি সাফল্যের এই শিখরে। আমাদের এই পথচলা গৌরবের, আমাদের এই অর্জন সবার।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে রাম নবমী পূজা ও মহাযজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট’-এর উদ্যোগে শ্রীরামচন্দ্রের শুভ আবির্ভাব তিথি ‘রাম নবমী’ পূজা, মহাযজ্ঞানুষ্ঠান ও ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার রাজধানী ঢাকার [অনুষ্ঠানস্থলের নাম লিখুন] প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহে ভক্তিভরে অভিষেক ও বিশেষ পূজা সমাপন করা হয়। এরপর বিশ্বশান্তি ও জনকল্যাণ কামনায় এক ভক্তিমূলক মহাযজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যজ্ঞানুষ্ঠান শেষে শ্রীরামচন্দ্রের জীবন ও আদর্শের ওপর এক বিশেষ ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মাননীয় নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে এবং সহ-সভাপতি জগন্নাথ হাওলাদার। আরও উপস্থিত ছিলেন যুব মহাজোটের সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে, ছাত্র মহাজোটের সাবেক সভাপতি সজীব বৈদ্য, ছাত্র মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অভিজিৎ রায় প্রীতম এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব চন্দ্র সাহা

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু মহাজোটের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিপুল সংখ্যক ভক্তবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা শ্রীরামচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন মাহাত্ম্য ও আদর্শ নিয়ে আলোকপাত করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, “শ্রীরামচন্দ্র ছিলেন ন্যায়, সত্য ও ত্যাগের মূর্ত প্রতীক। বর্তমান অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় রামায়ণের শিক্ষা ও রামরাজ্যের আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য।” বক্তারা শ্রীরামের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

পূজা শেষে উপস্থিত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Continue reading “বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে রাম নবমী পূজা ও মহাযজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত”

শেখর নগরে রক্ষাকালী পূজায় লাখো ভক্তের সমাগম: সেবায় নিয়োজিত হিন্দু যুব ও ছাত্র মহাজোট

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মুন্সিগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শেখর নগরে পরম ভক্তি ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রী শ্রী মা রক্ষাকালী পূজা। এই উপলক্ষ্যে আয়োজিত উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে।

পূজায় আগত এই বিশাল সংখ্যক পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশেষ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে মুন্সিগঞ্জ জেলা হিন্দু যুব ও ছাত্র মহাজোট

সেবামূলক কার্যক্রমের মূল দিকসমূহ:

তীব্র ভিড় ও গরমের কথা বিবেচনা করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দিনব্যাপী নানামুখী কর্মসূচি পালন করা হয়:

  • জল সেবা: তৃষ্ণার্ত ভক্তদের মাঝে সুপেয় পানি ও শরবত বিতরণ।

  • প্রাথমিক চিকিৎসা: অসুস্থ হয়ে পড়া ভক্তদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন।

  • সহযোগিতা ডেস্ক: ভক্তদের যাতায়াত ও অবস্থান সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান ও সহায়তা।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:

উক্ত সেবামূলক কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহিত করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে। এছাড়াও ছাত্র মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা হিন্দু ছাত্র ও যুব মহাজোটের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানব সেবাই ধর্মের মূল মন্ত্র। প্রতিবছর শেখর নগরের এই বিশাল আয়োজনে ভক্তদের সেবা করতে পারা আমাদের জন্য পরম সৌভাগ্যের।”

মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই শৃঙ্খলাপূর্ণ ও মানবিক কর্মসূচিটি সাধারণ ভক্ত এবং স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

Continue reading “শেখর নগরে রক্ষাকালী পূজায় লাখো ভক্তের সমাগম: সেবায় নিয়োজিত হিন্দু যুব ও ছাত্র মহাজোট”

হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে রামনবমী উদযাপন কমিটি ঘোষণা

ইমর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী শ্রী রামের শুভ আবির্ভাব তিথি ‘রামনবমী-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের উদ্যোগে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানটি আগামী ২৬শে মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় ঢাকার রায়েরবাজারস্থ শ্রী শ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রী রামের পূজা, যজ্ঞ অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবে শ্রী শ্রী কালী মন্দির কমিটি। আয়োজনে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট (উত্তর-দক্ষিণ) এবং সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

  1. অনুষ্ঠানকে সফল ও সার্থক করতে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি কামনা করেছেন আয়োজকরা। Continue reading “হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে রামনবমী উদযাপন কমিটি ঘোষণা”

সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব প্রতিরোধে সচেতন থাকুন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরণের উসকানিমূলক পোস্ট বা গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা।

হিন্দু মহাজোট: ঐক্যবদ্ধ হিন্দু সমাজের একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যে সংগঠনগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট অন্যতম। হিন্দু সমাজের মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের পাশাপাশি ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে এই সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

আজকের ব্লগে আমরা জানব হিন্দু মহাজোটের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং তাদের কার্যক্রম কেন সাধারণ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দু মহাজোট কী?

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট হলো দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং এটি একটি অরাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠন। এর মূল কাজ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সামাজিক, ধর্মীয় এবং মানবিক অধিকার রক্ষা করা।

হিন্দু মহাজোট কেন কাজ করছে?

এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো: ১. অধিকার সুরক্ষা: দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যে কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়ানো। ২. ঐক্য প্রতিষ্ঠা: হিন্দু সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এক পতাকাতলে নিয়ে আসা, যাতে নিজেদের সমস্যাগুলো সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা যায়। ৩. ধর্মীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ: মন্দির, দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষা এবং ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের পরিবেশ বজায় রাখা। ৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনগত অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা।

হিন্দু মহাজোটের কার্যক্রমের গুরুত্ব

বর্তমানে ডিজিটাল যুগে তথ্য পাওয়ার সহজ মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। হিন্দু মহাজোটের কর্মকাণ্ড এখন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে:

  • দ্রুত সহায়তা: দেশের যে কোনো প্রান্তে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে মহাজোটের মাধ্যমে দ্রুত সহযোগিতা পেতে পারে।

  • তথ্য আদান-প্রদান: বিভিন্ন ধর্মীয় ইভেন্ট, জাতীয় দাবি এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেটগুলো খুব সহজেই সাধারণ মানুষ জানতে পারছে।

  • নেতৃত্বের বিকাশ: নতুন প্রজন্মের তরুণদের মাঝে নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটি সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

কিভাবে হিন্দু মহাজোটের সাথে যুক্ত হবেন?

আপনি যদি মনে করেন যে হিন্দু সমাজের কল্যাণে কাজ করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব, তবে হিন্দু মহাজোটের সাথে যুক্ত হতে পারেন। তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করে সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করুন এবং আপনার স্থানীয় ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করুন।

শেষ কথা

একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান অপরিসীম। হিন্দু মহাজোট সেই পথেই কাজ করছে যেন হিন্দু সমাজের মানুষেরা তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও মর্যাদা নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে। ঐক্যবদ্ধ থাকলেই সমাজের উন্নয়ন সম্ভব, আর সেই ঐক্যের প্রতীক হয়ে হিন্দু মহাজোট এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে।

আপনার মতামত বা যে কোনো জিজ্ঞাসার জন্য নিচে কমেন্ট করুন। আমাদের সাথে থাকুন এবং হিন্দু মহাজোটের প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সমর্থন জানান।

সারাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের শ্বেতপত্র প্রকাশের অনুরোধ

১. শ্বেতপত্র কী এবং কেন প্রয়োজন?

শ্বেতপত্র (White Paper) হলো একটি সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রামাণ্য দলিল যেখানে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সঠিক তথ্য, পরিসংখ্যান এবং কারণ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়। হিন্দু মহাজোটের মতে, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত অপরাধী এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা আড়ালে থেকে যায়। তাই একটি নিরপেক্ষ শ্বেতপত্র অপরাধীদের চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।

২. প্রধান দাবি ও লক্ষ্যসমূহ

  • সঠিক পরিসংখ্যান: কতটি মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে, কতজনের জমি দখল হয়েছে এবং কতজন দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তার একটি নির্ভুল ডাটাবেস তৈরি করা।

  • বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ: অতীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার না হওয়ায় বারবার অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্তের পথ সুগম করা।

  • ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ: হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।

৩. হিন্দু মহাজোটের অবস্থান

মহাজোটের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি কমিশন গঠন করে গত কয়েক দশকের সংখ্যালঘু নির্যাতনের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে। তাদের মতে:

“সংখ্যালঘুরা এই দেশেরই সন্তান। কিন্তু বারবার তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে। আমরা চাই রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই নির্যাতনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র জনসমক্ষে আসুক যাতে বিশ্ববাসী সত্য জানতে পারে।”

৪. প্রস্তাবিত কমিশন ও তদন্ত প্রক্রিয়া

হিন্দু মহাজোটের দাবি অনুযায়ী এই শ্বেতপত্র তৈরির জন্য:

  • অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

  • কমিটিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং নিরপেক্ষ মানবাধিকার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

  • একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়ে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে হবে।

৫. প্রত্যাশা

এই শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে কেবল অপরাধীরাই চিহ্নিত হবে না, বরং ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের আইনি সংস্কার (যেমন: সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন) প্রয়োজন, তার একটি রূপরেখা পাওয়া যাবে।

সংসদে সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে হিন্দু মহাজোটের রাজপথের লড়াই

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আবারও দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করার দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় জোটের মুখপাত্র এবং নিবার্হী মহাসচিব  পলাশ কান্তি দে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংসদে সংরক্ষিত আসন এবং একটি সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

“আমরা কোনো দলের কৃপা চাই না, আমরা আমাদের নাগরিক অধিকার চাই। সংসদে আমাদের প্রতিনিধি আমরাই নির্বাচন করতে চাই।”

৭ দফা দাবির সারসংক্ষেপ:

  • সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন দ্রুত পাস করতে হবে।
  • জাতীয় সংসদে হিন্দুদের জন্য সংরক্ষিত আসন এবং পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা।
  • প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ‘মডেল মন্দির’ নির্মাণ করা।
  • সরকারি চাকরিতে আনুপাতিক হারে কোটা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
  • দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগেই যদি এই দাবিগুলো মেনে নেওয়ার রোডম্যাপ তৈরি না করা হয়, তবে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।